শনিবার । ১৩ই জুন, ২০২৬ । ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

বিশ্বকাপে যেসব রেকর্ড ভাঙতে পারেন মেসি-রোনালদো-এমবাপেরা

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ফুটবল মানেই আবেগ, উন্মাদনা, নান্দনিকতা ও ইতিহাসের এক অসাধারণ মেলবন্ধন। আর সেই আবেগ আরও তীব্র হয়ে ওঠে যখন বিশ্বমঞ্চে তৈরি হয় নতুন নতুন রেকর্ড। ২০২৬ বিশ্বকাপে বেশ কয়েকজন তারকা ফুটবলারের সামনে রয়েছে পুরোনো কীর্তি ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়ার সুযোগ।

থিবো কোর্তোয়া, দিদিয়ের দেশম, হ্যারি কেইন, লুকা মদ্রিচ, লামিন ইয়ামাল, কিলিয়ান এমবাপে, লিওনেল মেসি এবং ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোদের সামনে রয়েছে বিশ্বকাপের মঞ্চে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করার সম্ভাবনা। নিজেদের ক্যারিয়ারে ইতোমধ্যেই অসংখ্য সাফল্য অর্জন করা এই তারকারা এবারও ইতিহাসের পাতায় নতুন করে নাম লেখানোর সুযোগ পাচ্ছেন।

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ বিশ্বকাপে কোন কোন রেকর্ড ভাঙার অপেক্ষায় রয়েছে, সেদিকেই এখন নজর ফুটবলপ্রেমীদের। ব্যক্তিগত ও দলীয় অর্জনের নতুন অধ্যায় রচনার সম্ভাবনায় এবারের বিশ্বকাপ ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা, আর বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের দিকে থাকছে সমর্থকদের বিশেষ নজর।

সবচেয়ে বয়স্ক কোচ:
রেকর্ডধারী: সবচেয়ে বয়স্ক কোচের রেকর্ডটি বর্তমানে ওটো রেহাগেলের দখলে। তিনি ৭১ বছর বয়সে বিশ্বকাপে কোচিং করিয়ে এই রেকর্ড গড়েন। ২০১০ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ২–০ গোলে হারের ম্যাচে তিনি এই মাইলফলক স্পর্শ করেন।

ভাঙতে পারেন যারা: এই রেকর্ড এবার ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ডিক অ্যাডভোকাটের হাত ধরে, যার বর্তমান বয়স ৭৮ বছর। তার নেতৃত্বে জনসংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে ছোট দেশ হিসেবে কুরাসাও ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। ফলে তিনি নতুন করে সবচেয়ে বয়স্ক কোচ হিসেবে রেকর্ড গড়তে পারেন।

এছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হুগো ব্রোসের বয়সও ২০২৬ বিশ্বকাপে ৭৪ বছর ছাড়িয়ে যাবে, যা তাকেও এই তালিকায় আলোচনায় রাখছে।

নকআউটে সবচেয়ে বয়স্ক গোলদাতা
রেকর্ডধারী: নকআউট পর্বে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বয়স্ক গোলদাতার রেকর্ডের মালিক পেপে (৩৯ বছর)। ২০২২ বিশ্বকাপে শেষ ষোলোতে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে পর্তুগালের হয়ে ৩৯ বছর ২৮৩ দিন বয়সে গোল করে তিনি এই রেকর্ড গড়েন।

ভাঙতে পারেন যারা: ২০২৬ বিশ্বকাপে এই রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনা রয়েছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো (৪১ বছর), লুকা মদরিচ (৪০ বছর) এবং এডিন জেকোর (৪০ বছর) মতো অভিজ্ঞ ফুটবলারদের হাতে।

কোচ হিসেবে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ
রেকর্ডধারী: কোচ হিসেবে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ পরিচালনার রেকর্ডের মালিক হেলমুট শোন (২৫ ম্যাচ)। টানা চারটি বিশ্বকাপে জার্মানির দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯৬৬ থেকে ১৯৭৮ বিশ্বকাপ পর্যন্ত কোচ হিসেবে দায়িত্বে থেকে ১৯৭৪ সালে পশ্চিম জার্মানিকে শিরোপা জেতান শোন।

ভাঙতে পারেন যিনি: এবার তার এই রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনা রয়েছে দিদিয়ের দেশমের হাতে। ২০১৮ বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে চ্যাম্পিয়ন করা এই কোচ ১৯ ম্যাচে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছাতে পারলে তিনি শোনের রেকর্ডের সমতায় পৌঁছাবেন এবং এর পরের ধাপ অতিক্রম করলে রেকর্ডটি ভাঙার সুযোগ পাবেন।

সর্বকনিষ্ঠ গোল্ডেন বলজয়ী
রেকর্ডধারী: সর্বকনিষ্ঠ গোল্ডেন বলজয়ী রেকর্ডের মালিক ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিও (২১ বছর)। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের কাছে ফাইনালে পরাজিত হলেও সেই আসরে তিনি ৪টি গোল ও ৩টি অ্যাসিস্ট করেন। এই পারফরম্যান্সের জন্য মাত্র ২১ বছর বয়সে তিনি গোল্ডেন বল (সেরা খেলোয়াড়) জিতে নেন।

ভাঙতে পারেন যারা: এই রেকর্ডটি ভাঙার সম্ভাবনায় রয়েছেন কয়েকজন তরুণ তারকা। তাদের মধ্যে আছেন স্পেনের ১৮ বছর বয়সী লামিনে ইয়ামাল এবং ফ্রান্সের ২০ বছর বয়সী দেজিরে দুয়ে।

খেলোয়াড় হিসেবে সবচেয়ে বেশি জয়
রেকর্ডধারী: খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি জয় পাওয়ার রেকর্ডের মালিক মিরোস্লাভ ক্লোসা (১৭ জয়)। ২০০২ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত টানা চারটি বিশ্বকাপে জার্মানির হয়ে খেলেন তিনি। ১৬ গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাও তিনি। একই সঙ্গে ২৪ ম্যাচে ১৭ জয় নিয়ে খেলোয়াড় হিসেবে সবচেয়ে বেশি জয় পাওয়ার রেকর্ডও তার দখলে।

ভাঙতে পারেন যিনি: এই রেকর্ডের কাছাকাছি আছেন আর্জেন্টিনার খেলোয়ার লিওনেল মেসি। এখন পর্যন্ত ২৬ ম্যাচে ১৬ জয় নিয়ে তিনি ক্লোসার রেকর্ড ছোঁয়ার খুব কাছেই রয়েছেন।

সর্বোচ্চ গোলদাতা
রেকর্ডধারী:২০১৪ বিশ্বকাপে মিরোস্লাভ ক্লোসা তার সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডটি নিজের করে নেন। মারাকানায় ব্রাজিলের বিপক্ষে সেমিফাইনাল ম্যাচে তিনি এই রেকর্ড গড়েন।

ভাঙতে পারেন যারা: তার এই রেকর্ড এখন হুমকির মুখে। ২৬ ম্যাচে ১৩ গোল নিয়ে সবচেয়ে কাছে আছেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি লিওনেল মেসি। ১৪ ম্যাচে ১২ গোল নিয়ে তার পরেই রয়েছেন ফরাসি স্ট্রাইকার কিলিয়ান এমবাপ্পে। এছাড়া হ্যারি কেইন, নেইমার ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর গোল সংখ্যা ৮টি করে।

বদলি হিসেবে সর্বোচ্চ ম্যাচ
রেকর্ডধারী: বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ম্যাচে দেনিলসনের দৃশ্য প্রায় নিয়মিত হয়ে উঠেছিল—বেঞ্চ থেকে উঠে এসে বাঁ উইংয়ে ড্রিবলিংয়ের মাধ্যমে খেলা বদলে দিতেন তিনি। মোট ১২টি বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলে ১১টিতেই বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছেন এই সাবেক ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার।

ভাঙতে পারেন যিনি: এবার তার এই রেকর্ডের দিকে নজর ইংল্যান্ডের স্ট্রাইকার মার্কাস রাশফোর্ডের। এখন পর্যন্ত ৯ বার বদলি হিসেবে মাঠে নেমে তিনি দেনিলসনের রেকর্ডের খুব কাছাকাছি রয়েছেন।

সর্বোচ্চ ক্লিন শিট
রেকর্ডধারী: ১৯৯০ এর বিশ্বকাপে আসরে সর্বোচ্চ ১০ ম্যাচে ক্লিন শিট রাখার রেকর্ড গড়েন ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি গোলকিপার পিটার শিলটনের। পরে ২০০৬ বিশ্বকাপে সেই রেকর্ডের সমতা অর্জন করেন ফ্রান্সের ফাবিয়েন বার্থেজ।

ভাঙতে পারেন যিনি: এই রেকর্ডের কাছাকাছি আছেন বেলজিয়ামের গোলকিপার থিবো কোর্তোয়া। ১৫ ম্যাচে ৭টি ক্লিন শিট নিয়ে তিনি বর্তমানে রেকর্ডধারীদের পেছনে অবস্থান করছেন।

সর্বোচ্চ ফাইনাল
রেকর্ডধারী: ‘এক্সপ্রেস ট্রে’ খ্যাত কাফু ব্রাজিলের হয়ে ১৯৯৪, ১৯৯৮ ও ২০০২ বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলেছেন। তার দেশের কিংবদন্তি পেলে তিনবার বিশ্বকাপ জিতলেও ১৯৬২ ফাইনালে তিনি ছিলেন না।

ভাঙতে পারেন যারা: লিওনেল মেসি ২০১৪ ও ২০২২ বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলেছেন এবং শেষবার শিরোপা জেতেন। অন্যদিকে কিলিয়ান এমবাপ্পে ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হন। কাফুর এই রেকর্ড এবার ভাঙার সুযোগ রয়েছে মেসি ও এমবাপ্পের সামনে।

সবচেয়ে বেশি টুর্নামেন্টে হ্যাটট্রিক
রেকর্ডধারী: ‘বাতিগোল’ খ্যাত গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে দুটি বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করেছেন। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে গ্রিসের বিপক্ষে এবং ১৯৯৮ বিশ্বকাপে জ্যামাইকার বিপক্ষে তিনি এই কীর্তি গড়েন।

ভাঙতে পারেন যারা: এবার তার এই রেকর্ডের সামনে আছেন হ্যারি কেইন, কিলিয়ান এমবাপ্পে, গনসালো রামোস ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। তারা প্রত্যেকে একবার করে বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করেছেন, ফলে রেকর্ড ভাঙার সুযোগ রয়েছে তাদের সামনে।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন